শব্দ মানুষের সবথেকে প্রিয় জিনিসের মধ্যে অন্যতম। আমরা নিজেরাই জানি না শব্দবিহীন এই পৃথিবী কেমন কিংবা শব্দ যদি কয়েক ঘন্টার জন্যে গায়েব করে দেয়া হয় তবে আমাদের মনুষ্যজাতির জন্যে কি অবস্থা হবে! আমরা জীবনের কোনো এক পর্যায়ে গিয়ে অনেকেই ভাবি এমন কোথাও চলে যাই যেখানে থাকবে না মানুষের এত কথাবার্তা, যানবাহনের শব্দ, একদম নিস্তব্ধ সবকিছু, যেখানে একটু নিরিবিলি নিজের মত করে থাকা যাবে! কেউ ডিস্টার্ব করবে না, থাকবে না যানবাহনের কোনো শব্দ! এমনই একটি স্থানের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিবো।

আজকের "এক মিনিট বিজ্ঞান" ব্লগে আপনাদের জানাবো পৃথিবীর নীরবতম জায়গা সম্পর্কে।
আমেরিকার মিনেসোটা স্টেটে অবস্থিত অরফিল্ড ল্যাবরেটরি হচ্ছে পৃথিবীর নীরবতম স্থান। এই জায়গা এতটাই নীরব যে এর শব্দের মাত্রা ঋণাত্মক (-9.4dB)। এই ল্যাবরেটরিটি মূলত শব্দ নিরোধক দিয়ে তৈরি। ফলে যেকোনো শব্দ প্রতিফলিত হওয়ার থেকে শোষিত হয় অনেক বেশি। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে ইতিমধ্যে জায়গা করে নেয়া এই জায়গায় স্বাভাবিক মানুষ খুব বেশি সময় আবদ্ধ থাকতে পারে না।
পৃথিবীর সবথেকে শান্ত এই স্থানটিতে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪৫মিনিট সহ্য করতে পেরেছে মানুষ। ল্যাবরেটরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায় এই জায়গাটি প্রায় ৯৯শতাংশ শব্দ শোষণ করে। প্রচন্ড নিস্তব্ধ এই জায়গায় প্রথম প্রবেশে মানুষ নিজের হৃদস্পন্দন শুনতে পায়। অবাক হলেও সত্যি শুধু হৃদস্পন্দন নয় যকৃত, পাকস্থলির কার্যক্রমের শব্দ কানে আসবে মানুষের।

তাহলে এখন একটা প্রশ্ন অনেকের মনেই উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। আমরা কি চাইলে এই ল্যাবরেটরিতে যেতে পারবো?
উত্তর হচ্ছে হ্যাঁ। তবে কিছু শর্তপূরণ সাপেক্ষে যে কেউ চাইলেই এই জায়গাতে অবস্থান করার সুযোগ পাবে। অরফিল্ডের এই ল্যাবরেটরিতে আপনি একা কখনওই প্রবেশের অনুমতি পাবেন না। আপনাকে একটা গ্রুপের সাথে যার মেম্বার সংখ্যা কমপক্ষে দুইজন নিয়ে সেখানে অবস্থান করার অনুমতি দেয়া হবে তবে অবশ্যই সাথে একজন মেন্টর থাকবে। এতকিছুর পর গুনতে হবে বড় অংকের টাকা।
জনপ্রতি ১২৫ ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় সাড়ে দশ হাজার টাকার মত খরচ করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে কোনো সময়ের উল্লেখ নেই। আপনি যতক্ষন চাইবেন থাকতে পারবেন (পারবেন তো?)।

এত গেল মনুষ্য সৃষ্ট পৃথিবীর সবথেকে শান্ত জায়গার আলোচনা। কিন্তু প্রকৃতি সৃষ্ট এমন জায়গা কি আছে? হ্যাঁ অবশ্যই আছে। জানতে আমাদের নিয়মিত ব্লগ পোস্টে নজর রাখুন।
আজকের ব্লগ তবে এপর্যন্তই। ধন্যবাদ। ব্লগটি ভালো লাগলে Science Voice-র অন্য ব্লগ পড়বেন।

No comments:
Post a Comment